সকাল ৬:৩৭, মঙ্গলবার ।। ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
সকাল ৬:৩৭, মঙ্গলবার ।। ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

উসকানিতে পা দিলে দুই কূলই যাবে: প্রধানমন্ত্রী

বেতন বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ হলে চাকরি ও বেতন দুটোই হারানোর সম্ভাবনা আছে। এজন্য তাদের উসকানিতে পা না দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (৭ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে এক আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বেতন বাড়ানো..এটা সেটা..নানান ধরনের আন্দোলন যদি করতে যায় আর এই রপ্তানি যদি বন্ধ হয়, গার্মেন্টসহ সব কারখানা তো বন্ধ হয়ে যাবে। তখন আমও যাবে ছালাও যাবে। তখন চাকরিই চলে যাবে। তখন ঘরে ফিরে যেতে হবে। তখন কি করবে? যদি কেউ কেউ অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, আমি বলবো শেষে একুল-ওকুল দুই কূলই হারাতে হতে পারে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশে আমরা যেসব পণ্য রপ্তানি করি এর মধ্যে পোশাক অন্যতম। এই শিল্পের শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। আন্দোলন করছে ঠিক আছে..কিন্তু যেসব দেশ আমাদের গার্মেন্টস কিনবে, তাদের ক্রয় ক্ষমতাই নাই। যাদের কাছে রপ্তানি করি তাদের ক্রয়ক্ষমতাও সীমিত হয়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে আরও খারাপ হচ্ছে। আমরা আমেরিকা ইউরোপসহ যেসব দেশে পাঠাই..সেসব জায়গায় জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। সেখানের মানুষ অনেক মানুষ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সবার খাদ্য পোশাক, ভ্যাকসিন অন্তত আমরা দিয়ে যেতে পারছি।

‘কাজেই আমাদের সবাইকে মিতব্যায়ী হতে হবে। কোনো খাদ্য যেন নষ্ট না হয়। প্রত্যেকে যার যার নিজের সঞ্চয় করতে হবে। সব তো আর সরকার করে দেবে না।”

করোনাকালীন প্রণোদনাসহ সরকারে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে গার্মেন্ট শিল্প এখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা ভালো সুবিধা পাচ্ছি, উৎপাদন বাড়ছে এবং এই সমস্ত শ্রমিকরা তাদের বেতন বন্ধ হয়নি। আমরা সেখানে প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি, ভর্তুকি দিয়ে গার্মেন্টের শ্রমিকরা যাতে পায় সেই ব্যবস্থা করেছি। আমরা ফোনের মাধ্যমে এই শ্রমিকদের টাকা দিয়েছি। মালিকদের হাতেও দেইনি।এ সময় আন্দোলন করা শ্রমিকদের উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, যেই নেতারা উসকানি দিচ্ছে তারা কাদের প্ররোচনায় উসকানি দিচ্ছে। সেটাও একটু ভেবে দেখতে হবে।

‘কারাখানা বন্ধ হলে কিন্তু চাকরিও চলে যাবে। তখন বেতন বাড়ানো নয় বেতনহীন হয়ে যাবে। সেটা যদি না বুঝে আমাদের কিছু করার নেই। বেসরকারি খাতে আমরা আর কতো দেব। আমরা তো ভর্তুকি দিয়েই যাচ্ছি। এর চেয়ে বেশি দেওয়া সম্ভব নয়। করোনাকালীন তো আমরা কোনো কারখানা বন্ধ হতে দেয়নি। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিলাম। এখন তার সুফল পাচ্ছি।”

তিনি বলেন, কারো কথায় কোনো অশান্তি সৃষ্টি করলে দেশের ক্ষতি নিজের ক্ষতি। এটাও সবাইকে মনে রাখতে হবে। আমার মনে হয়, শ্রমিকদের এবং শ্রমিক নেতাদের এ কথাটি জানা উচিত। নেতাদের ও কোনো সমস্যা নাই। তারা যেখান থেকে উসকানি পাচ্ছে সেখান থেকে ভালো অঙ্কের টাকা পাবে। কিন্তু ভাগ্যে কি হবে? এদের রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে এদের ক্ষতিই তো করা হবে। সেটা তো মাথায় রাখতে হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন কয়েক দফা বেড়েছে-সেই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর ১৬০০ টাকা থেকে গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন আমরা কতো দফা বাড়িয়েছি। সেটাও হিসেবে নিতে হবে। যারা ১৬০০ টাকা পেতো তারা ৮ থেকে ১০ হাজার এবং ওভার টাইম ও অন্যান্য সুযোগ-সুসবিধা দিয়ে যথেষ্ট বেশি পাচ্ছে। হ্যাঁ, জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে এটা ঠিক, তবে এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী বাড়ছে। আমাদের দেশে তাও আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি , নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করা করা হচ্ছে।

আগামী বাজেটে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং উন্নয়ন অগ্রগতি সচল রাখতে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান সৃষ্টির পর পশ্চিম পাকিস্তানিদের শোষণ-বঞ্চনা থেকে বাংলার জনগণকে মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার জীবনের লক্ষ্যই ছিল বাংলার জনগণকে এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেওয়া।

তিনি বলেন, সব সময়ই বঙ্গবন্ধুর আকাঙ্ক্ষা ছিল বাঙালি জাতিগোষ্ঠীকে একটি মর্যাদাবান জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। ছয় দফা নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। ছয় দফার প্রণয়ক বঙ্গবন্ধু নিজেই। তিনি তখন আলফা ইন্সুরেন্সে চাকরি করতেন। হানিফ সাহেব তখন বিএ পাস করেছেন। তাকে নিয়ে আসেন জাতির পিতা। বঙ্গবন্ধু যখন বলতেন তখন হানিফ সাহেব ছয় দফা ড্রাফট করতেন। ছয় দফা সম্পর্কে জানলে শুধু জানতেন হানিফ। কারণ তিনিই এই ছয় দফা বাংলা ও ইংরেজিতে টাইপ করে দিয়েছিলেন।

সরকার প্রধান বলেন, একটা যুদ্ধ হবে তার প্রস্তুতি। দেশ স্বাধীন হলে পতাকাটা কি হবে, কিভাবে দেশ চলবে সবকিছু তিনি পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন। ৬ দফা হলো শেষ ধাপ।

করোনায় বিশ্বব্যাপী মন্দা এবং রাশিয়া ও উইক্রেন যুদ্ধ এই পরিস্থিতিতে উন্নত দেশগুলো অর্থনীতিতে হিমশিম খাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট চলছে। আমরা ভুর্তকি দিয়ে দিয়ে দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। তারপরও কেউ যদি গোলমাল করার চেষ্টা করে তাহলে এদেশটা যদি একেবারে স্থবির হয়ে যায় তাহলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থাটা হবে?

তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ এখনও অনেক ভালো আছে। তারা যাতে ভালো থাকে সেজন্য আমরা দৃষ্টি দিচ্ছি। এজন্য আমি বলেছি এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদী না থাকে। বিশ্বব্যাপী খাদ্য অভাব, পণ্য সংকট; সেখানে আমাদের মাটি আছে মানুষ আছে ফসল ফলাতে হবে।

এ সময় ২৫ জুনে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশবাসীর সমর্থন ছিলো বলেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক উচু অবস্থানে চলে গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পর্কিত খবর
সাম্প্রতিক খবর